
আমি নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ, তাই আমার চিন্তা গুলোও অতি সাধারণ। আমার সাধারণ চিন্তা থেকে আমি “বিশ্বাস”কে একটি অতি শক্তিশালী বিষয় হিসেবে মনে করি। আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে বিশ্বাস করে আমি সবসময় জিতেছি তা কিন্তু নয়।বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার পরিমানই বেশি। মানুষকে বিশ্বাস করা অনেক সহজ, কিন্তু মানুষের বিশস্ত হওয়া সত্যিই অনেক কষ্টের। কারও বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য যেমন বিভিন্ন পরিক্ষায় উত্তীর্ন হওয়া চাই, তেমটি কাউকে বিশ্বাস করার পূর্বেও
আমাদের কিছু পরিক্ষা করে নেওয়া উওম।
“বিশ্বাস করে ২মিনিটে বন্ধু হওয়া যায় কিন্তু, বিশ্বস্ত হয়ে ২ বছরে ।”আমি সাধারনত সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলতাম তাই আমার বন্ধুর পরিমানও ছিল বেশি। ফলে আমি বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়াটা নিত্য। বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে মনে যেমন কষ্ট পেতাম তেমনি একটি বিষয় চিন্তা করতাম সে কি সত্যিই আমাকে তার বন্ধু ভেবেছিল!। তবে হ্যাঁ কিছু বন্ধু তো ছিলই যারা এমটি করত না বরং তারা আমাকে শান্তনা দিত।
যাইহোক, একদিন চিন্তা করতে লাগলাম মানুষকে আমার কতটা বিশ্বাস করা উচিৎ? কেনই বা আমি মানুষকে বিশ্বাস করব? আর তাকে আমি কেমন বিশ্বাস করব?। এ প্রশ্নগুলো আমার মাথায় আসে এবং এগুলো নিয়ে ভাবতে শুরু করি। আর খুজতে থাকি এর উওর।
- কতটা বিশ্বাস করা উচিৎঃ সাধারনত আমি মানুষকে প্রয়োজনের চাইতে বেশি বিশ্বাস করতাম। উদাহরন স্বরুপ বলা যায় কাউকে দেখে যদি আমার ভাল লাগত তাহলে আমি তাকে বিশ্বাস করতে শুরু করাতাম। তার লুকিং আর কথা বলার ধরন দেখে।আমি মনে করতাম যে সে দেখতে সুদর্শন আর সুন্দর ভাবে কথা বলে সো আমি তার বন্ধু হওয়া উচিৎ। আমি তাকে নিতান্তই ভাল মানুষ আর বিশ্বস্ত মনে করতাম। কিছু চলার পর তার নতুন রুপ আমার কাছে উন্মেচিত হত যা সত্যিই কাম্য ছিল না। তাই বলা যায় যে আমি প্রয়োজনের চাইতে বেশি বিশ্বাস করতাম।
“ বেশি কথা বলা ও বেশি খাবার কোনটাই শ্রেয় নয়”- প্লেটো
মানুষকে ততটাই বিশ্বাস করা উচিৎ যতটা প্রয়োজন। আপনার ব্যাবসায়ের পার্টনারকে ততটাই করা উচিৎ যতটা আপনার ব্যাবসার জন্য উওম। গাড়ির ড্রাইভারকে ততটাই বিশ্বাস করা উচিৎ যতটা আপনাকে গন্তব্য পৌছাবে। বন্ধুকে ততটাই করা উচিৎ যেন সে ক্ষতি কিংবা কষ্ট না দিতে পারে। অতিরিক্ত বিশ্বাস আপনার জীবনে ক্ষতি ব্যতিত আর কিছুই নিয়ে আসতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা আর মা-বাবা ব্যতিত সবাইকে বিশ্বাসের মাপকাঠির মাঝে নিয়ে আসতে হবে।
- কেন বিশ্বাস করবেনঃ কোন কিছু ঘটার জন্য কোন না কোন কারন প্রয়োজন হয়। আমার মতে মানুষকে বিশ্বাস করার জন্যও কোনো না কোনো কারন প্রয়োজন। আমরা মায়ের কথা বিশ্বাস করি কারন তিনি আমার মা, বাবার কথা বিশ্বাস করি কারন তিনি আমার বাবা। আমাদের চলার পথে এমন কিছু মানুষকে না বুঝেই বিশ্বাস করি।যারা আমাদের মা, বাবা, ভাই, বোন কিংবা আত্নিয় স্বজনও নয়। আপনি এও জানেন না যে আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করলেন।বিশ্বাস করা উচিৎ বিশ্বস্ত মানুষকে যে ইতিমধ্যে আপনার বিশ্বাসের পরিক্ষায় উওম হয়েছে।কাউকে বিশ্বাস বা বিশ্বস্ত ভাববার আগে অবশ্যই তাকে পরিক্ষা করে নিবেন। কারন আপনি কখনই চাইবেন না যে তাকে বিশ্বাস করে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হতে।বিশ্বস্ত ভাববেন শুধু তাদেরকেই যারা আপনার পরিক্ষায় উওম হবে।
“নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফর কে বিশ্বাস করেছিল”
মীর জাফরকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বিশ্বাস করেছিল, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বিশ্বাস করেই ব্যাবসা করতে দিয়েছিল। সেই বিশ্বাসের ফল স্বরুপ একটি জাতীকে ২০০ বছর গোলাম হয়ে থাকতে হয়েছিল। তাই আপনি কাকে বিশ্বাস করবেন আর কাকে করবেন না তা আপনাকেই খুজেঁ নিতে হবে। যেমনঃ আমি এখন কাউকে বিশ্বাস করার আগে নিজেকে প্রশ্ন সে কি আমার পরিবারের কেউ নাকি আমার আত্নীয়? তাছাড়া আমি তাকে কেনই বা বিশ্বাস করব। তাকে বিশ্বাস করার কী কী কারন হতে পারে। যখন নিজের প্রতি এই প্রশ্ন করি তখন তার উওর আমার ভিতর থেকেই বেরিয়ে আসে।তাকে বিশ্বাস করা উচিৎ হবে কিনা। - কেমন বিশ্বাস করবঃ সব কিছুর উর্দ্ধে চলার পথে তো মানুষ বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস যে কোন একটিকে বেঁচে নিতেই হবে তো সে ক্ষেত্রে সবাইকে তো আর সবরকম বিশ্বাস করা যায় না।উদাহরণ দিয়ে বলি আমরা অনেক সময় আমাদের শত্রুর সাথেও বন্ধুত্ব করি এবং ভাবতে শুরু করি সে এখন আমার বন্ধু হয়ে গেছে। তাই তার দ্বারা আমার কোনো ক্ষতি হতে পারে এমন চিন্তা মাথায় রাখি না। অথচ কিছুদিন পর দেখা যায় যে সে আপনার বন্ধু হয়ে আপনার একটি অনেক বড় ক্ষতি করেছে। যা হয়ত তাকে শত্রু মনে করা অবস্থায় কখনই সম্ভব ছিল না। একটু চিন্তা করে দেখুন আপনি যদি মাথায় রাখতেন যে সে আমার শত্রু ছিল কিন্তু এখন সে হয়ত কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আমার ক্ষতি করতে পারে। তাহলে আপনি তার সাথে সতর্কতার সাথে চলতেন এবং নিজের ক্ষতি হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারতেন।
এবার আসুন আমরা মূলত কেমন বিশ্বাস করা উচিৎ। আমি মনে করি যার সাথে যতটুকু বিশ্বাস সম্পর্কিত তেমন বিশ্বাস করাই উচিত। যেমনঃ আপনার ব্যাবসায় পার্টনারের সাথে আপনি শুধু মাত্র ব্যাবসায়িক বিষয়বস্তু বিশ্বাস করে বলতে পারেন কিন্তু পরিবারের বা ব্যাক্তিগত বিষয় নয়। তাই আমি মনে করি যার সাথে যে বিষয় সম্পর্ক যুক্ত তাকে ওই দিকে বিশ্বাস করা উওম।
সর্বোপরি, আমাদের সমাজ জীবনে চলতে গেলে আমাদের মানুষকে বিশ্বাস করেই চলতে হবে। সেই চলার পথে আমরা যেন সচেতন ভাবে মানুষকে বিশ্বাস করি সে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার ক্ষুদ্র জীবনের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা ছিল। আমিও নিজেও অনেক সময় এই বিষয়গুলো মাথায় না রেখেই মানুষকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হই।তবুও ভাল লাগলে বিষয়টি ভেবে দেখবেন। কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
“সব কিছু যুক্তি দিয়ে চলে না, বিশ্বাস যুক্তির চাইতেও উত্তম”