
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালে, বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের সুরক্ষার লক্ষ্যে। বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এই সংস্থা। তবে, বাস্তবতায় দেখা যায়, জাতিসংঘের কার্যক্রম প্রায়শই পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীভূত, যেখানে মুসলিম বিশ্বের সংকটসমূহে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
রোহিঙ্গা সংকট: জাতিসংঘের সীমিত কার্যকারিতা
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়, ফলে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার পরও, জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তবে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, যা জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ফিলিস্তিন সংকট: জাতিসংঘের দ্বৈত মানদণ্ড
ফিলিস্তিনের ভূমি ইসরায়েলের হাতে চলে যাওয়ার পেছনে জাতিসংঘের ভূমিকা বিতর্কিত। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনের ভূমি বিভক্ত করে ইসরায়েলকে ৫৭% এলাকা প্রদান করে, যদিও সেখানকার জনসংখ্যার মাত্র ২৫% ছিল ইহুদি। পরবর্তীতে ইসরায়েলি আগ্রাসনে পুরো ফিলিস্তিন সংকটে পতিত হয়। আরব বিশ্বও ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে দোদুল্যমান অবস্থানে রয়েছে, যা সংকট সমাধানে বাধা সৃষ্টি করছে।
কাশ্মীর ইস্যু: জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তা
কাশ্মীরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ কাশ্মীর নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছিল, যেখানে গণভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ভারত সেই গণভোট কখনোই হতে দেয়নি, আর জাতিসংঘও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
আফগানিস্তান ও ইরাক: পশ্চিমা আগ্রাসন ও জাতিসংঘের নীরবতা
আমেরিকা দুই দশক ধরে আফগানিস্তান দখল করে রেখেছিল এবং লক্ষাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। একইভাবে, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ তুলে দেশটিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়। এই দুই ক্ষেত্রেই জাতিসংঘ ছিল নীরব। বরং বলা যায়, জাতিসংঘকে ব্যবহার করেই পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য পূরণ করেছে।
জাতিসংঘের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি পশ্চিমা বিশ্বের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করছে। মুসলিম বিশ্বের সংকট সমাধানে জাতিসংঘের ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, এটি কখনোই নিরপেক্ষ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও মুসলিমদের পক্ষে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে না। মুসলিম দেশগুলোর উচিত জাতিসংঘের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করা এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা।
Labels : #politics ,#socialmedia ,