প্রায় ১২০০ বছর আগে, গল্প অনুযায়ী, এক পাল ছাগল এবং তাদের মালিক, এক রাখাল, এই সহজ অথচ জীবন বদলে দেওয়া উপাদানটি আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করলেন যে তার ছাগলগুলো একটি বিশেষ বুনো ফল খাওয়ার পর চঞ্চল ও উত্তেজিত হয়ে উঠছে। এরপর মানুষও ফলটি খাওয়া শুরু করে এবং পরে এটি ফুটিয়ে পানীয় তৈরি করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় "আল-কাহওয়া"।
![]() |
ImageSoure: 1001inventions |
ইয়েমেনের সুফিরা আল-কাহওয়া পান করতেন মূলত জাগ্রত থাকার জন্য, যেমনটা আমরা আজও করে থাকি। ভ্রমণকারী, হাজি ও বণিকদের মাধ্যমে কফি মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৫শ শতকের শেষের দিকে এটি মক্কা ও তুরস্কে পৌঁছে যায়, ১৬শ শতকে কায়রোতেও জনপ্রিয়তা লাভ করে।
কফির ইউরোপে প্রবেশ
একজন অটোমান বণিক, পাশা রিজা (Pasqua Rosee), ১৬৫০ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে কফি নিয়ে আসেন। তিনি লন্ডনের জর্জ ইয়ার্ড, লম্বার্ড স্ট্রিটে একটি কফিহাউস খোলেন। আট বছর পর, "সুলতানেস হেড" নামে আরেকটি কফিহাউস কর্নহিলে চালু হয়। আজকের বিখ্যাত বীমা প্রতিষ্ঠান Lloyd’s of London একসময় "এডওয়ার্ড লয়েডস কফি হাউস" নামে পরিচিত ছিল।
১৭০০ সালের মধ্যে, লন্ডনে প্রায় ৫০০টি কফিহাউস এবং সমগ্র ইংল্যান্ডে প্রায় ৩,০০০টি কফিহাউস ছিল। এই কফিহাউসগুলোকে "পেনি ইউনিভার্সিটি" বলা হতো, কারণ মাত্র এক পেনির বিনিময়ে কফি পান করার পাশাপাশি সে সময়ের মহান মনীষীদের সঙ্গে আলোচনা করা যেত।
ক্যাপুচিনো কফির উৎপত্তি
১৬৮৩ সালের আগে, ইউরোপে কফি প্রস্তুত করা হতো মুসলিম ঐতিহ্যের অনুসরণে। গুঁড়া কফি, চিনি এবং পানি একসঙ্গে ফুটিয়ে পরিবেশন করা হতো, ফলে কাপের তলায় কফির তলানি থেকে যেত।
ক্যাপুচিনো কফির ধারণাটি আসে মার্কো দ’আভিয়ানো নামে এক ক্যাথলিক যাজকের কাছ থেকে। ১৬৮৩ সালে, অটোমান তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়, তুর্কিরা ভিয়েনা থেকে পিছু হটলে তারা প্রচুর পরিমাণে কফির বস্তা ফেলে রেখে যায়। ভিয়েনার জনগণ এই কফি পান শুরু করে, কিন্তু এটি তাদের কাছে খুব তেতো লাগছিল। তাই তারা কফির সঙ্গে ক্রিম ও মধু মিশিয়ে নরম স্বাদের একটি পানীয় তৈরি করে।
এই নতুন পানীয়টি দেখতে ক্যাপুচিন ধর্মযাজকদের পোশাকের মতো বাদামি রঙের হয়ে গিয়েছিল। তাই এই কফিকে তাদের নাম অনুসারে "ক্যাপুচিনো" বলা হয়। সেই থেকে ক্যাপুচিনো তার মসৃণ ও উপভোগ্য স্বাদের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
Labels : #History ,